খুলনা-কলকাতার সরাসরি ট্রেন বন্ধন এক্সপ্রেস

খুলনা থেকে কলকাতা সংখ্যার হিসেবে খুব বেশি দূরে নয়। তবে যশোর পর্যন্ত মহাসড়কের অবস্থা অত্যন্ত করুণ হবার কারণে ট্রেনে যেতে পারলেই সুবিধা বেশি। বেনাপোল পর্যন্ত খুলনা থেকে কমিউটার ট্রেন চলে যেটা বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য খুব ভালো একটি অপশন। কিন্তু নন-এসি এই লোকাল ট্রেনটি সবার জন্য সুবিধাজনক নাও হতে পারে। সম্প্রতি চালু হওয়া বন্ধন এক্সপ্রেসই খুলনা-কলকাতা যোগাযোগের জন্য সেরা অপশন। আসুন দেখে নেই এই ট্রেনটির খুঁটিনাটি।

খুলনা স্টেশন থেকে ছাড়ার আগ মুহূর্তে বন্ধন এক্সপ্রেস-ছবি লেখক

বর্তমানে এ ট্রেনটি খুলনা স্টেশন প্রতি বৃহস্পতিবার দুপুর ১:৩০টায় ছেড়ে সরাসরি কলকাতার চিৎপুর রেল স্টেশনে পৌঁছে সন্ধ্যা ৬-৬:৩০টার দিকে। একইভাবে ভারত থেকে আসতে হলে ভারতীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭:১০ এ কলকাতা থেকে ছেড়ে দুপুর ১২-১২:৩০টার দিকে ‍খুলনা পৌঁছে। আসলে ৫২ বছর আগে খুলনা-কলকাতা সার্ভিস চালু ছিল, পরবর্তীতে যেটা বন্ধ হয়ে যায়।

খুলনা থেকে রেলপথে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ১৭৫ কিলোমিটার, যার ৯৫ কিলোমিটার বাংলাদেশ অংশে, অর্থাৎ বেনাপোল পর্যন্ত। বাকিটা ৭৮ কিলোমিটার ভারতের অংশে। এই ট্রেনটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে এসি চেয়ার ১,৫০০ টাকা এবং এসি কেবিন ২,০০০ টাকা করে। এর মধ্যে অবশ্য ট্রাভেল ট্যাক্স ৫০০ টাকা করে অনর্ভূক্ত আছে, ফলে আলাদা করে আর ট্রাভেল ট্যাক্স দেয়ার ঝামেলা নেই।

ট্রেনের ভেতরের অংশ ছবি লেখক

কলকাতা থেকে ভাড়া পড়বে এসি চেয়ার ৭৫০ রুপি আর এসি কেবিন ১,০০০ রুপি। আসার সময় ট্রাভেল ট্যাক্সের প্রয়োজন পড়বে না বলে ভাড়া কম। তবে ৪৫৬ আসনের এই ট্রেনে এখনও ১০০ এর বেশি যাত্রী হয় না। এর একটি বড় কারণ ভাড়া। অনেক যাত্রীই মনে করেন এই ট্রেনের ভাড়া অনেক বেশি। উল্লেখ্য খুলনা-কলকাতা সরাসরি চলা বাস “সৌহার্দ্যে”র ভাড়াও কিন্তু ১,০০০ টাকা অর্থাৎ ট্রাভেল ট্যাক্স সহ ১,৫০০ টাকাই পড়ে।

টিকেট কাটতে হলে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে খুলনা স্টেশনে বন্ধনের জন্য আলাদা কাউন্টারে যেতে হবে। সঙ্গে অবশ্যই পাসপোর্ট থাকতে হবে, পাসপোর্ট দেখানো ছাড়া টিকেট ইস্যু করা হয় না। ট্রেন ছাড়ার অন্তত ২ ঘণ্টা আগে টিকেট কাটতে হবে। অপরদিকে কলকাতার চিৎপুর স্টেশনের ২য় তলায় নির্ধারিত কম্পিউটারাইজড কাউন্টার থেকে উপস্থিত হয়ে টিকেট কাটতে হবে। মনে রাখবেন অনলাইনে এর টিকেট পাওয়া যায় না। চিৎপুরের কাউন্টার খোলা থাকে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। ছুটির দিনে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

বাংলাদেশ অংশে ইমিগ্রেশনের কাজ হয় বেনোপোলে বিশেষভাবে নির্মিত প্লাটফর্মে। এখানে ট্রেন দাঁড়ানোর পর আপনাকে লাগেজ সহ নামতে হবে। প্রথমে কাস্টমসে ব্যাগ স্ক্যান করে যেতে হবে ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে। ইমিগ্রেশন পুলিশের যে কোনো একটি কাউন্টারে পাসপোর্ট ও অন্যান্য ডকুমেন্ট (যেমন অফিস কর্তৃক প্রদত্ত নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) দেখিয়ে ডিপারচার সিল নিয়ে আবার ট্রেনে উঠে বসতে হবে।

বেনোপোলে নির্মিত বিশেষ প্লাটফরমে বন্ধন এক্সপ্রেস- ছবি লেখক

সবার ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ হলে ট্রেন ভারতীয় অংশে একবার দাঁড়িয়ে বিএসএফদের তুলে নেবে। এর মধ্যে বিএসএফ তাদের নিজস্ব অনুসন্ধান শেষ করবে। পরের গন্তব্য সোজা কলকাতার চিৎপুর স্টেশন। ভারতীয় অংশের ইমিগ্রেশন এই স্টেশনেই হবে। মনে রাখবেন ট্রেন থেকে নেমে প্রথমে ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছে যাবেন, সেখানে ছবি তুলে ও পাসপোর্টে এরাইভাল সিল নিয়ে চলে আসবেন কাস্টমসের কাছে। সেখানে আপনার সাথে কত টাকা ও ডলার আছে সেটার ঘোষণাপত্রে লিখতে হবে।

এভাবে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের কাজ শেষ হলেই আপনি হেঁটে স্টেশন থেকে বের হয়ে যেতে পারবেন। মনে রাখবেন আইনত ভারতীয় রুপি নেয়া নিষেধ, সেটা যাতে আপনাদের সাথে না থাকে। আর কলকাতা স্টেশনে নেমে ট্যাক্সি সাবধানে ভাড়া করবেন, সাধারণত ট্যাক্সি ড্রাইভার ৭০০/৮০০ রুপি দাবী করে। একটু সামনে হেঁটে গেলে প্রিপেইড ট্যাক্সি বুথ পাবেন সেখান থেকে নিউমার্কেট এলাকা পর্যন্ত ২২০ রুপিতে ট্যাক্সি ভাড়া করতে পারবেন।

আমি গত ১৬ই আগস্ট ২০১৮ এ ট্রেনে করেই ভারতে যাই। আমার কাছে অন্তত সুবিধাজনক মনে হয়েছে। আমার সাথে আমার স্ত্রী ও ১৩ মাস বয়সী শিশুপুত্র ছিল। টিকেট কাটার সময় আমি ছেলের জন্য একটি অতিরিক্ত আসন নেই যার জন্য দিতে হয়েছে ৫০০ টাকা, ট্রাভেল ট্যাক্স লাগেনি। ট্রেন নির্ধারিত সময়েই খুলনা ছেড়ে যায়। ট্রেনেও খাবার বিক্রি হয়, দুপুরের লাঞ্চ হিসেবে বিক্রি হয় চিকেন বিরিয়ানি যার মূল্য রাখা হয় ১৫০ টাকা।

ছাড়ার ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট পরে আমরা বেনাপোল পৌঁছে যাই। ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস শেষ করতে সময় লাগে ৩০ মিনিটের মতো। আমাদের সময় লেগেছে ১০ মিনিটেরও কম, সবার কাজ শেষ হতে ওই সময় লাগে। কলকাতা স্টেশনে আমরা পৌঁছাই সন্ধ্যা ৬টার একটু পরে। সেখানে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের কাজ শেষ করতে সময় লাগে ১০ মিনিটেরও কম। এরপর আমরা প্রিপেইড ট্যাক্সি নিয়ে মারকুইজ স্ট্রিটে আমাদের নির্ধারিত গেস্ট হাউজে পৌঁছে যাই।

ট্রেনেই ফেরার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু ঈদের ছুটির কারণে ট্রেন না চলায় বাসেই আসতে হয়েছে। বাসে সকাল ৮টায় রওনা দিয়ে আমরা খুলনা পৌঁছাই বিকেল সাড়ে ৫টায়। অথচ ট্রেনে খুলনা আসতে হলে সকাল ৭টা ১০ এ ছেড়ে আসা ট্রেন খুলনা পৌছে যায় ১২-১২:৩০টার মধ্যে। দুটোর তুলনা করলে ট্রেনে ভ্রমণ আসলেই অনেক আরামদায়ক এবং নিরাপদ।

var loaded = false; var loadFB = function() { if (loaded) return; loaded = true; (function (d, s, id) { var js, fjs = d.getElementsByTagName(s)[0]; if (d.getElementById(id)) return; js = d.createElement(s); js.id = id; js.src = "http://connect.facebook.net/en_US/sdk.js#xfbml=1&version=v3.0"; fjs.parentNode.insertBefore(js, fjs); }(document, 'script', 'facebook-jssdk')); }; setTimeout(loadFB, 0); document.body.addEventListener('bimberLoadFbSdk', loadFB); })();

Must Read

বাংলার প্রাচীন রাজধানী গৌড়ের খানিক ইতিহাস ও দর্শনীয় স্থানগুলো

বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত গৌড় নগর ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যযুগীয় অন্যতম বৃহৎ নগরী। এটি বাংলার প্রাচীন রাজধানী। আনুমানিক ১৪৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৫৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত...

সুন্দরবনের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ

বাংলাদেশের মধ্যে যে কয়েকটি স্থান ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় স্থান করে নিয়েছে তার মধ্যে সুন্দরবন অন্যতম। এখানে সুন্দরী গাছের আবাসস্থল রয়েছে এবং এটি...

দ্বিতীয় দিন-দুপুরের আগে পৌঁছাতে হবে কালাপোখরি

খুব ভোরে ঘুম ভাঙল। ওয়াশরুমে গেলাম ফ্রেশ হতে, বসে আছি কিছুক্ষণ। তখনো ভোর হয়নি, হঠাৎ বামে তাকালাম। আমি যা দেখলাম পরের ৫ মিনিট আমি...