জেনে নিন খুঁটিনাটি

ভ্রমণে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এর কারণ ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারের মাধ্যমে অনেকগুলো বিষয় খুব সহজে করা যায়, যার ফলে আপনার ভ্রমণ হয়ে ওঠে ঝামেলামুক্ত। তবে কিছু বিষয় না জানলে উল্টো ক্রেডিট কার্ডের উপর ভরসা করে বিদেশে গিয়ে বড় ধরনের বিপদে পড়তে পারেন। আসুন দেখে নেই কী সেগুলো।

নিজের কার্ড সম্পর্কে জানুন: ক্রেডিট কার্ড অনেক ধরনের হতে পারে। যে ব্যাংকই ইস্যু করুক, আপনার ক্রেডিট কার্ড এর মূল প্রস্তুতকারক কে জেনে নিন। বাংলাদেশে সাধারণত তিন ধরনের ক্রেডিট কার্ড দেখা যায়, এগুলো হচ্ছে ভিসা কার্ড, মাস্টারকার্ড ও  অ্যামেক্স কার্ড। এর মধ্যে সারা বিশ্বব্যাপী ভিসা কার্ডই সবচেয়ে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য।

এরপরই মাস্টার কার্ডের অবস্থান। অন্যদিকে ইউরোপ-আমেরিকাতে জনপ্রিয় হলেও এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশেই অ্যামেক্স কার্ড চলে না। যে দেশে যাবেন ভালোমতো খোঁজ নিয়ে যাবেন আপনার কার্ড সেখানে গ্রহণ করা হয় কিনা।

মাস্টারকার্ড-ছবি এইচএসবিসি ব্যাংক

কার্ড পাসপোর্টে এনডোর্স করুন: আপনার ক্রেডিট কার্ড থাকার অর্থ এ নয় যে আপনি সেটা বিদেশে গেলেই ব্যবহার করতে পারবেন। বিদেশে ব্যবহার করার জন্য অবশ্যই আপনার কার্ডটি পাসপোর্টে বাৎসরিক ট্রাভেল কোটার বিপরীতে এনডোর্স করা থাকতে হবে। এক অর্থবছরে নন সার্কের জন্য সর্বোচ্চ ৭,০০০ ডলার ও সার্কের জন্য ৫,০০০ ডলার মোট ১২,০০০ ডলার এনডোর্স করতে পারবেন। বিদেশ যাবার অন্তত তিন কর্মদিবস আগেই ব্যাংকে পাসপোর্ট সহ গিয়ে কার্ড এনডোর্স করে নেবেন।

কখনোই পুরো কোটা এনডোর্স নয়: আপনার নিজস্ব ভ্রমণ কোটার পুরোটাই কার্ডে এনডোর্স করে ফেলবেন না। করে ফেললে আপনি ক্যাশ ডলার বহন করতে পারবেন না। ভালো হয় আপনি কোটার অর্ধেক এনডোর্স করবেন কার্ডে, বাকিটা থেকে যখন যে পরিমাণ দরকার কিছু ক্যাশ ডলার অবশ্যই সঙ্গে নিয়ে যাবেন।

ব্যাংককে জানিয়ে বিদেশ যান: সব সময় বিদেশ যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কল সেন্টারে ফোন করে জানিয়ে যান আপনি কোন দেশে কত দিনের জন্য যাবেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে অধিকাংশ সময় আপনার কার্ডের ডলার অংশ বন্ধ করা থাকে। ব্যাংকে আপনার যাওয়ার সময় ও দেশ জানিয়ে রাখলে তারা সে অংশটি খুলে রাখবে। ভালো হয়, দেশ ছাড়ার আগে শেষবারের মতো নিশ্চিত হয়ে নেবেন ডলার অংশ খোলা আছে কিনা।

বিদেশে ক্রেডিট কার্ড বড় বন্ধু-ছবি fountain.com

পিন কোড মনে রাখুন: বর্তমানে প্রায় সব কার্ডই পিন কোড ছাড়া ব্যবহার করা যায় না। তাই কার্ডের পিন কোড মুখস্ত রাখুন। এছাড়া মোবাইলে গোপনে ভিন্ন নামে পিন কোড সংরক্ষণ করে রাখুন, যাতে কোনো দ্বিধা দেখা দিলে দেখে নিতে পারেন। অবশ্যই পিন কোড কারো সাথে কোনো অবস্থতাতেই শেয়ার করবেন না।

কল সেন্টারের নাম্বার জেনে রাখুন: সাধারণত কার্ডের পেছনেই কল সেন্টারের নাম্বার দেয়া থাকে। তবে বিদেশ থেকে কল করার জন্য আলাদা ওভারসীজ নাম্বার থাকে, সেটা ভালোভাবে লক্ষ করুন, প্রয়োজনে নাম্বার মোবাইলে সেইভ করে রাখুন। বিদেশে কার্ড ব্যবহারে কোনো সমস্যা দেখা দিলে ব্যাংকে ফোন করে সমস্যার কথা খুলে বলুন।

ক্যাশ উত্তোলন নয়, কার্ড পাঞ্চ করুন: জরুরী দরকার না থাকলে যতটা সম্ভব ক্যাশ তোলা এড়িয়ে চলুন। কার্ড পাঞ্চ করলে আপনার আলাদা খরচ থাকবে না, কিন্তু ক্যাশ উত্তোলন করলে খরচের পরিমাণ বেড়ে যাবে। অধিকাংশ বিদেশি ব্যাংক কার্ড থেকে ক্যাশ তুলতে চাইলে আলাদা একটি অ্যামাউন্ট চার্জ করে থাকে। তাই ক্যাশ তুলতে হলে একবারেই পুরো ট্রিপের জন্য টাকা তুলে ফেলুন। সাধারণ সরকারী ব্যাংকগুলোতে চার্জের হার কম বা থাকেই না, তাই সেগুলোর বুথ ব্যবহারের চেষ্টা করুন।

শুধু কার্ডের উপর ভরসা নয়: শুধুমাত্র কার্ডের উপর ভরসা করে বিদেশে চলে যাবেন না। অন্তত কিছু ডলার ক্যাশ রাখুন। অনেক সময় এটিএম বুথ পাওয়ার আগেই আপনার ক্যাশের দরকার পড়তে পারে বা সার্ভার ডাউন থাকতে পারে। তাই অন্তত ৫০/১০০ ডলার ক্যাশ রাখুন। বর্তমান নিয়মুনাসারে আপনি জনপ্রতি ১০,০০০ টাকা ক্যাশ নিয়ে যেতে পারেন। ভারতে ক্যাশ টাকাও আপনাকে সাহায্য করতে পারবে।

দুটো ক্রেডিট কার্ড রাখুন: আপনার ক্রেডিট কার্ড যদি ভিসা বা মাস্টারকার্ড হয়ে থাকে অধিকাংশ দেশের অধিকাংশ জায়গায় আপনি কার্ড ব্যবহার করে চলতে পারবেন। তবে ভালো হয় অন্তত দু ধরনের দুটি কার্ড রাখলে। এতে করে আপনার একটি কার্ড কাজ না করলেও অন্য কার্ড দিয়ে উৎরে যেতে পারবেন। আপনার যদি অ্যামেক্স কার্ড থেকে থাকে তবে অবশ্যই অন্তত একটি ভিসা/মাস্টারকার্ড সঙ্গে রাখুন। বিশেষ করে আফ্রিকার কোনো দেশেই অ্যামেক্স কার্ড ব্যবহার করা যায় না।

অনলাইনে কেনাকাটা: অনেক সময় অনেক ব্যাংকের কার্ডে অনলাইনে কেনাকাটা করতে হলে আগে থেকে কল সেন্টারে ফোন করে জানাতে হয়। আপনার কার্ড যদি এরকম হয়ে থাকে বিদেশে প্রয়োজনে অনলাইনে টিকেট বা অন্য কোনো কেনাকাটা করতে হলে ব্যাংকে ফোন দিতে হবে। বিদেশ থেকে বার বার এ ধরনের ফোন করাটা একটু ঝামেলার বিষয়।

আবার অনেক ব্যাংকে অনলাইনে ট্রান্জেকশন করতে হলে ওটিপি বা “ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ডের” প্রয়োজন পড়ে। সাধারণত মোবাইলে এ ওটিপি পাঠানো হয়। বিদেশে আপনার মোবাইল ফোন অকার্যকর থাকায় আগে থেকে ওটিপির সেটিংস মেইল দিয়ে রাখতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনার অনলাইন ট্রান্জেকশন সুবিধা নিতে সমস্যা হবে না।

যত্নে রাখুন কার্ড: পরিশেষে যত্ন সহকারে রাখুন আপনার ক্রেডিট কার্ড। মানিব্যাগের নির্ধারিত জায়গায় কার্ড রাখুন যাতে চাপ পড়ে চিপ/বা অন্য কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কোনো কারণে কার্ড কাজ না করলে নার্ভাস হয়ে বার বার চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজনে ব্যাংকে আলাপ করে আবার চেষ্টা করুন।

ফিচার  ইমেজ: publicphotodomain.net

var loaded = false; var loadFB = function() { if (loaded) return; loaded = true; (function (d, s, id) { var js, fjs = d.getElementsByTagName(s)[0]; if (d.getElementById(id)) return; js = d.createElement(s); js.id = id; js.src = "http://connect.facebook.net/en_US/sdk.js#xfbml=1&version=v3.0"; fjs.parentNode.insertBefore(js, fjs); }(document, 'script', 'facebook-jssdk')); }; setTimeout(loadFB, 0); document.body.addEventListener('bimberLoadFbSdk', loadFB); })();

Must Read

বাংলার প্রাচীন রাজধানী গৌড়ের খানিক ইতিহাস ও দর্শনীয় স্থানগুলো

বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত গৌড় নগর ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যযুগীয় অন্যতম বৃহৎ নগরী। এটি বাংলার প্রাচীন রাজধানী। আনুমানিক ১৪৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৫৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত...

সুন্দরবনের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ

বাংলাদেশের মধ্যে যে কয়েকটি স্থান ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় স্থান করে নিয়েছে তার মধ্যে সুন্দরবন অন্যতম। এখানে সুন্দরী গাছের আবাসস্থল রয়েছে এবং এটি...

দ্বিতীয় দিন-দুপুরের আগে পৌঁছাতে হবে কালাপোখরি

খুব ভোরে ঘুম ভাঙল। ওয়াশরুমে গেলাম ফ্রেশ হতে, বসে আছি কিছুক্ষণ। তখনো ভোর হয়নি, হঠাৎ বামে তাকালাম। আমি যা দেখলাম পরের ৫ মিনিট আমি...