স্বপ্নপুরির জগতে একটি দিন

সাধারণ পার্কের সঙ্গে থিম পার্কের পার্থক্য হচ্ছে, এটি একটি থিম বা বিষয়বস্তুর ওপর তৈরি করা হয়। সেই থিমকে কেন্দ্র করে এর স্থাপনা এবং রাইডগুলো সাজানো হয়। বিশ্বের প্রথম থিম পার্কটি হচ্ছে ‘সান্তা ক্লজ ল্যান্ড’। এর ৯ বছর পর যে থিম পার্কটি শুরু হয়েছে, সেটার নাম ছোটবড় সবাই শুনেছে, ‘ডিজনিল্যান্ড’।
বাংলাদেশের প্রথম থিম পার্কের নাম “ফ্যান্টাসি কিংডম”। প্রায় ২০ একর জায়গার ওপর স্থাপিত পার্কটি ২০০২ সালের ১৬ই মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।

প্রবেশ পথ, সোর্সঃ লেখিকা

ফ্যান্টাসি কিংডমের নির্মাণ ও তত্ত্বাবধান করছে কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড। রাজধানীর অদূরে সাভারের আশুলিয়া থানার ঢাকা-আশুলিয়া মহাসড়কের পাশে জামগড়া এলাকায় পার্কটি অবস্থিত।
আমার স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পছন্দ অনুযায়ী স্কুল থেকে ফ্যান্টাসি কিংডম তথা স্বপ্নরাজ্যে পিকনিকে যাওয়ার জন্য নির্ধারিত হয়েছে। সকাল আটটায় বাস ছাড়লো সাইনবোর্ড থেকে। দশটায় পৌঁছে গেল জামগড়ায় ফ্যান্টাসি কিংডমের গেটে। অনলাইনে পাওয়া তথ্যমতে সকাল দশটায় খোলার কথা হলেও ফ্যান্টাসির গেট খোলা হয় বেলা এগারোটায়।
ফ্যান্টাসি কিংডম পার্কটি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। ওয়াটার কিংডম, ফ্যান্টাসি কিংডম, রিসোর্ট আটলান্টিকা, এক্সট্রিম রেসিং (গো-কার্ট) ও হেরিটেজ কর্নার।

হেরিটেজ কর্নার

ফ্যান্টাসি কিংডমে প্রায় প্রত্যেকটা কর্ণারে ঢুকতে হলে টিকিটের টাকা গুনতে হয়। প্রবেশ পথেই প্রত্যেকটা কর্নার আলাদা করে দেওয়া আছে। আমি আগে থেকেই হেরিটেজ কর্নারের প্রতি আগ্রহী ছিলাম। টিকিট কাটতে যাওয়ার সময় রুবেল স্যারকে বলেও দিলাম, হেরিটেজ পার্কের একটা টিকিট নিতে। হেরিটেজ পার্কে ঢোকার জন্য আগে আলাদা করে টিকিট কাটা লাগতো।
এখন ফ্যান্টাসি কিংডম আর হেরিটেজ পার্কের মাঝখানে যে পার্টিশন দেয়াল ছিল, সেটা ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমরা স্কুল প্যাকেজ নিয়েছিলাম। ৬৫০ টাকার এই প্যাকেজে দশটা রাইডের সাথে আছে দুপুরের খাবার। টিকিট দিয়ে প্রবেশপথ পেরিয়ে ভিতরে ঢুকে ঘাড় ঘুরিয়ে চারপাশটা দেখে নিচ্ছি। ডানপাশে তাকাতেই দেখি, অল্প দূরে আহসান মঞ্জিলের ক্ষুদে রূপরেখাটি আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে।

সীতাকোট মুড়া, সোর্সঃ লেখিকা

তারমানে হেরিটেজ কর্নারের জন্য আলাদা করে টিকিট কাটা লাগে না! দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেলাম সেদিকে। আগে এই অংশটুকুর পরিচয় দিই। সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে ঐতিহ্যবাহী কিছু নিদর্শন। সেই স্থাপনাগুলোর হুবহু নকল বানানো হয়েছে এই জায়গাটায়। রেপ্লিকাগুলো হলো সংসদ ভবন, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, লালবাগ কেল্লা, ষাট গম্বুজ মসজিদ, চুনাখোলা মসজিদ, কান্তজীর মন্দির, সীতাকোট বিহার, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, পুঠিয়া রাজবাড়ি, গ্রিক মেমোরিয়াল ও আহসান মঞ্জিলের।
প্রতিটি রেপ্লিকার সামনে লেখা রয়েছে সেগুলোর বর্ণনা ও ইতিহাস। হেরিটেজ পার্কটি মূলত তৈরি করা হয়েছে স্কুল-কলেজ থেকে পিকনিকে আসা ছাত্রছাত্রী আর বিদেশি পর্যটকদের জন্য, যেন তারা বাংলাদেশের ঐতিহ্য সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারে।

ষাট গম্বুজ মসজিদ, সোর্সঃ লেখিকা

ওরা সত্যিই স্থাপনাগুলোর হুবহু নকল বানাতে পেরেছে। রাজবাড়ির ছোট ছোট নকশা, স্মৃতিসৌধের পিছনের সাতটা স্তম্ভ, আহসান মঞ্জিলের সিঁড়ি, ষাট গম্বুজ মসজিদের ষাটটি গম্বুজ, কান্তজীর মন্দিরের টেরাকোটা সহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যাপারগুলো নিখুঁতভাবে করতে পেরেছে। কেবল কাজ সারার মতো দায়সারা কিছু বানিয়ে রাখেনি। ব্যাপারটা ভালো লেগেছে আমার কাছে।
এগুলো ছাড়াও বাঙালির ঐতিহ্য ধারণ করে এমন সব জিনিস রেখেছে এখানটায়। পালকি, গরুর গাড়ি, রিকশা তার মধ্যে অন্যতম।

ফ্যান্টাসি কিংডম

এটায় রাইডসের মধ্যে রয়েছে জিপ অ্যারাউন্ড, জায়ান্ট ফেইরিস হুইল, জায়ান্ট স্প্যানিশ, ম্যাজিক কার্পেট, জুজু ট্রেন, সান্তা মারিয়া, কফি কাপ, বাম্পার কার্ট, বাম্পার বোট, প্যাডল বোট, রোলার কোস্টার, ইজি ডিজি।

আহসান মঞ্জিল, সোর্সঃ লেখিকা

আমরা মেয়েরা প্রথমেই গেলাম রোলার কোস্টারে। তখনো চালুই হয়নি ওটা। মিলা বলল, ‘ম্যাম একদম প্রথম কোস্টারে বসলে বেশি মজা।’
রুবেল স্যার, শাহ আলম স্যার এই রাইডের ব্যাপারে অনেক ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছে। গতবার বাতাসের ঝাপটায় চোখে পানি চলে এসেছিল শাহ আলম স্যারের। আর রুবেল স্যার বলছিলেন, হ্যান্ডেল শক্ত করে ধরে রাখতে রাখতে নাকি উনার হাত ঘেমে ভিজে গিয়েছিল। এবারে তাই কোনো রাইডেই উঠবে না তাঁরা।
বলাই বাহুল্য, তাঁদের কথায় আমি ভয় তো পাইনি বরং আমার আগ্রহ বেড়ে গিয়েছিল। তাই সাথে সাথে মিলাকে বললাম, ‘তাহলে আমি আর তুমি সবার সামনে, ওকে?’
মেয়েটা খুবই সাহসী। বান্ধবীগুলো খুব ভয় পায়, তাই আমাকে পেয়ে মহাখুশি। তখনই রোলার কোস্টারের নিয়ন্ত্রক এসে টিকিট পাঞ্চ করে ঢোকার গেট খুলে দিল। আমি আর মিলা দ্রুত পায়ে প্রথম কোস্টারে বসে সিট বেল্ট বেঁধে নিলাম। নিয়ন্ত্রক এসে সেফটি ক্যাচ লক করে দিলো।
এই প্রথমবার রোলার কোস্টারে চড়েছি। সত্যি কথা বলতে গেলে, স্যারেরা আমার মনে একটু হলেও ভয় ঢোকাতে পেরেছে। চালু হবার আগে তাই একটু ভয় ভয় লাগছিল। কিন্তু চলতে শুরু করার পর সত্যিই খুব মজা লাগছিল। একটা জায়গা আছে, প্রায় তিনতলা উপর থেকে খাড়া নিচের দিকে নামে। ওই সময়টায় মনে হচ্ছিল আমি বাতাসে ভাসছি, আমার কোনো ওজনই নেই। আরেকটা জায়গা আছে একপাশে কাত হয়ে যায়, তখন একটু ভয় লেগেছে। পুরোটা সময়ে তারস্বরে চেঁচিয়েছি। মিলা বলে দিয়েছিল, ‘ম্যাম, ভয় না পেলেও চিল্লাবেন। মজা লাগবে দেখেন!’
মিলা ওর সেফটি ক্যাচটা ধরেইনি। হাত ছড়িয়ে রেখেছিল দুইপাশে। আমার অতোটা সাহস হয়নি। আমি ওটা ধরে রেখেছিলাম শক্ত হাতে। পুরো রাইডটা অল্প সময়েই শেষ হয়ে গেল। আমার তখনই মনে হচ্ছিল, এত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল!

চূনাখোলা মসজিদ, সোর্সঃ লেখিকা

এরপর আমরা গেলাম ম্যাজিক কার্পেটে চড়তে। ম্যাজিক কার্পেট যেমন হাওয়ায় ভাসে, এটাও বাতাসে চক্কর দেবে। দল বেঁধে এটায় গিয়ে উঠলাম। এটাও মজার। কিন্তু অনেকেই খুব ভয় পাচ্ছিল এটায় বসে। উপরে উঠার পর খালি বলছিল, ‘আমি নামবো, আমি নামবো!’ কিন্তু মাঝপথে কি আর নামায়? কয়েকবার রাউন্ড দেওয়ার পর নামালো।
এরপর গিয়ে বসলাম ইজি ডিজিতে। এটা একটা জায়ান্ট মাকড়শা। মাকড়শার প্রত্যেকটা পায়ে পাঁচটা করে বসার জায়গা। একেকটায় দুইজন করে বসা যায়। আমরা সবাই মাকড়শার একটা পায়ের সিটগুলোয় বসলাম, যেন কাছাকাছি থাকা যায়। মিউজিক শুরু হলো, মিউজিকের সাথে সাথে ঘুরতে শুরু করলো। প্রথমে নিজ অক্ষে ঘোরে। তারপর মাকড়শার শরীরের চারপাশে ঘোরে পর্যাবৃত্ত গতির মতো। এটা বেশ মজার ছিল।

কান্তাজীর মন্দির, সোর্সঃ লেখিকা

এরপর আরেকটা ঘূর্ণন রাইডে চড়ার জন্য পা বাড়ালো ওরা। আমি বললাম, পরপর দুইটা ঘোরার রাইডে না উঠি। মাথা ঘুরাবে। ওরা মানলো না। বাধ্য হয়ে ওটায় গিয়ে চড়তে হলো। এবং আমার আশঙ্কা সত্যি করে দিয়ে দুই তিনবার রাউন্ড দেওয়ার পরই আমার পেটে পাঁক দিতে শুরু করলো। এই রাইডটা শেষ হবার আগেই আমি প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পড়লাম। শেষ হবার পর বমি হলো।
আমাদের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে আশুলিয়া ক্যাসেল রেস্টুরেন্টে। রাইড থেকে নেমে রেস্টুরেন্টে গিয়ে মুখে পানির ঝাপটা দিয়ে ভিতরে গিয়ে বসলাম। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ার আগে সুমন স্যার সবাইকে বলে দিয়েছিলেন একটার মধ্যে এখানে চলে আসতে। একে একে সবাই আসতে লাগলো। কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে আমারোও ফ্রেশ লাগছিল। খাবার নিয়ে এসে বসে পড়লাম এক টেবিলে।
খাবার ভালোই ছিল। পোলাও, কক মুরগীর রোস্ট, ডিম, ভেজিটেবল কারি, সালাদ। আলাদা করে রাইস দেওয়া হয়েছিল।

পালকি, সোর্সঃ লেখিকা

খাওয়ার পর একটু কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে ওয়াটার রোলার কোস্টারে গিয়ে চড়লাম। এটায় সবচেয়ে মজা লাগে উপর থেকে নিচে পড়ার পর যখন পানির ঝাপটা লাগে তখন। তিনটা স্লাইড এতে। প্রথমটা একতলা সমান উচ্চতা, দ্বিতীয়টা দুইতলা, তৃতীয়টা তিনতলা। আমার এতো ভালো লাগলো যে দ্বিতীয়বার এটায় চড়তে গেলাম। ওটাই কাল হলো।
কাল হলো বলতে, কোনো দূর্ঘটনা নয়। এই রাইডে কোস্টার যখন পানিতে ডাইভ দেয় তখন একটা পানির ঝাপটা লাগে। কিন্তু ওই ঝাপটায় খুব একটা ভেজে না। হয়তো রোদে একটু ঘোরাফেরা করলেই শুকিয়ে যেত। দ্বিতীয়বার যখন তিন নাম্বার স্লাইডটা থেকে পড়লাম, তখন পাশের লেনে দোতলা উচ্চতা থেকে আরেকটা কোস্টার স্লাইড করে পড়লো। ওটার পানির ঝাপটা খেয়ে আমার পুরোপুরি গোসল হয়ে গেল!

ওয়াটার কিংডম

ওয়াটার কিংডমে প্রবেশ করার আগেই মাটির নিচ দিয়ে রয়েছে আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর ভার্চুয়াল অ্যাকোয়ারিয়াম টানেল। এটা পার হয়েই প্রবেশ করতে হয় ওয়াটার কিংডমে।
অম্বুরাজ্যে বেড়ানোর মজাদার আর রোমাঞ্চকরসব রাইড নিয়ে সাজানো হয়েছে ওয়াটার কিংডম। মজার মজার ১১টি রাইড ছাড়াও রয়েছে বেড়ানোর মতো অনেক জায়গা। কৃত্রিম সমুদ্র সৈকত; ওখানটায় আর্টিফিশিয়াল নারকেল গাছের সারির ছবি দিয়ে বীচের আবহ আনার চেষ্টা করা হয়েছে। ওয়েবপুল; এখানটায় সমুদ্রের মতো নীল পানি দিয়ে কৃত্রিম সমুদ্র বানানো হয়েছে। কিছুক্ষণ পর পর ঝাঁকি দেওয়া হয় পানিতে, ফলে স্থির পানিতেই ঢেউ উৎপন্ন হয়, তীরে এসে ঢেউ আছড়ে পড়ে। কৃত্রিম গুহা আছে, গুহায় বুক সমান পানি থাকে। ঝর্ণা আছে।
আছে বিশাল উঁচু জায়গা থেকে আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে জল ভর্তি পুলে পড়ার জন্য স্লাইড ওয়ার্ল্ড, টিউব স্লাইড, পরিবারের সবাই মিলে আনন্দ করা যাবে ফ্যামিলি পুলে। এ ছাড়া লেজি রিভার, ওয়াটার ফল, ডুম স্লাইড, লস্ট কিংডম, প্লে জোন, ড্যান্সিং জোনের মতো মজার সব রাইডও আছে এখানে। ওয়াটার ফল, ওয়াটার ওয়ার্ল্ড, মাল্টিস্পাইড, ডুম স্পাইড, স্পাইড ওয়ার্ল্ড, ফ্যামিলি পুল, টিউব স্পাইড, লেজি রিভার, লস্ট কিংডমসহ মজাদার সব রাইডস। ওয়াটার কিংডমে ঢোকার জন্য এক্সট্রা ২০০ টাকা লাগে। এটার রাইডগুলো কিন্তু ফ্রি।

শীতের দেশের প্রাণী, সোর্সঃ লেখিকা

কঠিন কোনো রাইডে যেতে ইচ্ছে করলো না। জুজু ট্রেনে উঠলাম। এটা তেমন কিছুই না। পুরো ফ্যান্টাসি কিংডম কর্নারটা একবার ঘুরে দেখা আর কী! এক জায়গাতেই একটু স্পেশাল। গুহামতোন জায়গায় ঢোকে ট্রেনটা। গুহার ভেতরের পরিবেশে আধিভৌতিক আবহ আনার চেষ্টা করা হয়েছে। এটুকুই।
এরপর আর একটা রাইডেই উঠলাম। সান্তা মারিয়া নামের এই রাইডটা নাকি খুব ভয়ঙ্কর। রুবেল স্যার বলছিলেন, ‘এটা একটা নৌকা। নৌকাটা যখন উপর থেকে নিচে নামে, তখন মনে হয় কলিজাটা বুক থেকে নিচে টপকে পড়ে যাবে!’
নামটা শুনেই আমি অবাক হয়ে ভাবছিলাম, সান্তা মারিয়া তো একজন জলদস্যুর নাম! জলদস্যুর নামে রাইড কেন হবে? গিয়ে দেখি সত্যি সত্যি বিশাল এক জাহাজ! জাহাজের ঠিক মাঝ বরাবর কুখ্যাত জলদস্যু সান্তা মারিয়া স্টিলের শরীর নিয়ে একপায়ে দাঁড়িয়ে আছে। অন্য পা নেই। হাতে পিস্তল ধরা, কোমরে তলোয়ার গোঁজা। জাহাজটায় বসার জন্য সিট দেওয়া আছে। ঝড় উঠলে জাহাজ যেমন ঢেউয়ের তালে তালে একবার এইপাশে কাত হয় আরেকবার অন্যপাশে, এই রাইডটা চালু হলে জাহাজটার একপ্রান্ত একবার উপরে উঠে যায়, অন্য প্রান্ত নিচে নামে। একইভাবে বিপরীত ঘটনা ঘটে।

কৃত্তিম লেক, সোর্সঃ লেখিকা

এ ছাড়া ফ্যান্টাসি কিংডম থিম পার্কে বুমার কার, সান অ্যান্ড মুন, স্পিডি ওয়ে, ইগলু হাউজ সহ বিভিন্ন ধরনের রাইডস উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে।
সবশেষে আমরা ছাত্র শিক্ষক সবাই মিলে ইগলু হাউজে ঢুকলাম। বরফের রাজ্যে এস্কিমোরা নিজেদের জন্য যেরকম গম্বুজের মতো বাড়ি বানায়, সেরকম। ভিতরের পরিবেশটায় ঠাণ্ডা আবহাওয়ার আমেজ রাখা হয়েছে। ভিতরে কৃত্রিম গাঢ় কুয়াশা, তুষারপাত হচ্ছে। আছে পেঙ্গুইন, মেরু ভাল্লুকের প্রতিকৃতি। ভিতরে গান চলতে থাকে। সবাই মিলে ওখানে যেমন খুশি তেমন নাচে। এই জায়গাটায় কেবল ফ্রেন্ড সার্কেল বা গ্রুপ নিয়ে গেলে ভালো লাগবে। একা একা গিয়ে তেমন মজা নেই।
বিশেষ বিশেষ দিনে বা উৎসব উপলক্ষে কনসার্ট, গেম শো, ফ্যাশন শো, ডিজে শো, র‌্যাফল ড্র, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজন করা হয়ে থাকে ফ্যান্টাসি কিংডমে।

খোলা ও বন্ধের সময়সূচী

পার্কটি সপ্তাহের ৭ দিনই খোলা থাকে। সাধারণ দিনগুলোতে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং সরকারী ছুটির দিনগুলোতে এটি সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

টিকেটের মূল্য ও প্যাকেজ

ফ্যান্টাসি কিংডমে প্রবেশ মূল্য ও রাইড মিলিয়ে বিভিন্ন প্যাকেজ রয়েছে। একমাত্র কোলের বাচ্চা ছাড়া সকলের টিকেট সংগ্রহ করতে হয়। বয়স্কদের জন্য প্রবেশ ও ২টি রাইড ২২০ টাকা, তিন ফুটের নীচে বাচ্চাদের প্রবেশ ও ২টি রাইড ১২০ টাকা, বয়স্কদের প্রবেশ ও সব রাইড ৩৯০ টাকা, বাচ্চাদের প্রবেশ ও সব রাইড ২০০ টাকা এবং ৪ জনের প্রবেশ, সব রাইড এবং লাঞ্চ/ডিনার এর প্যাকেজ ১৬০০ টাকা।
স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশেষ আয়োজন রয়েছে। আমরা এই সুবিধা নিয়েই গিয়েছি।

যেভাবে যাওয়া যায়

মতিঝিল থেকে মঞ্জিল পরিবহন, হুইল লাইন্স ওয়াটার কিংডম মগবাজার, মহাখালি, উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর ও আশুলিয়া হয়ে যাওয়া যায়। আর হানিফ মেট্রো সার্ভিস যায় মতিঝিল থেকে ছেড়ে শাহবাগ, শুক্রাবাদ, আসাদগেট, শ্যামলি, গাবতলি, সাভার, নবীনগর হয়ে। ভাড়া ৪০-৫০ টাকা।

কোথায় খাবেন

ফ্যান্টাসী কিংডমে খাওয়া দাওয়া করার জন্যে বেশ কিছু ভালো রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো:
✿ আশুলিয়া ক্যাসেল রেষ্টুরেন্ট: থাই এবং ইন্টারন্যাশনাল মেনুতে খাবার পরিবেশন করা হয়। আমরা এটাতেই খেয়েছি। খাবার বেশ ভালো।
✿ ওয়াটার টাওয়ার ক্যাফে: বারবিকিউ ফুড এবং পিজা পাওয়া যায়।
✿ রোলার কোস্টার স্টেশন: স্পাইসি ফ্রাইড চিকেন, বার্গার ইত্যাদি ফাষ্টফুড পাওয়া যায়।

কোথায় থাকবেন

ফ্যান্টাসী কিংডমে বেড়াতে এসে যদি কেউ থাকতে চান তাদের জন্য রয়েছে ৬০ কক্ষ বিশিষ্ট মোটেল আটলান্টিস রিসোর্ট হোটেল। এছাড়া কর্পোরেট পিকনিক, বিবাহোত্তর সংবর্ধনা, জন্মদিনের পার্টি, কোম্পানি মিটিং/সেমিনার, স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের পুনর্মিলনী আয়োজনের ব্যবস্থা করে থাকে কর্তৃপক্ষ। এখানে একসাথে ৬ হাজার লোকের ব্যবস্থা করা যায়।
অনুষ্ঠানের দিনে সাধারণ দর্শনার্থীর প্রবেশ বন্ধ থাকে, যা পূর্বে পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়। থিম পার্কের ভেতরে রেষ্টুরেন্ট/ফাষ্ট ফুডের দোকান আছে। যদিও সাধারণ দামের চেয়ে বেশি নেওয়া হয়। বাইরে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনার কারণে পার্কের ভেতরে হকারের উৎপাত নেই।
ফিচার ইমেজ – bm.thereport24.com

var loaded = false; var loadFB = function() { if (loaded) return; loaded = true; (function (d, s, id) { var js, fjs = d.getElementsByTagName(s)[0]; if (d.getElementById(id)) return; js = d.createElement(s); js.id = id; js.src = "http://connect.facebook.net/en_US/sdk.js#xfbml=1&version=v3.0"; fjs.parentNode.insertBefore(js, fjs); }(document, 'script', 'facebook-jssdk')); }; setTimeout(loadFB, 0); document.body.addEventListener('bimberLoadFbSdk', loadFB); })();

Must Read

বাংলার প্রাচীন রাজধানী গৌড়ের খানিক ইতিহাস ও দর্শনীয় স্থানগুলো

বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত গৌড় নগর ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যযুগীয় অন্যতম বৃহৎ নগরী। এটি বাংলার প্রাচীন রাজধানী। আনুমানিক ১৪৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৫৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত...

সুন্দরবনের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ

বাংলাদেশের মধ্যে যে কয়েকটি স্থান ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় স্থান করে নিয়েছে তার মধ্যে সুন্দরবন অন্যতম। এখানে সুন্দরী গাছের আবাসস্থল রয়েছে এবং এটি...

দ্বিতীয় দিন-দুপুরের আগে পৌঁছাতে হবে কালাপোখরি

খুব ভোরে ঘুম ভাঙল। ওয়াশরুমে গেলাম ফ্রেশ হতে, বসে আছি কিছুক্ষণ। তখনো ভোর হয়নি, হঠাৎ বামে তাকালাম। আমি যা দেখলাম পরের ৫ মিনিট আমি...