২০১৮ সালের বিশ্বসেরা ১০ বিমানসংস্থা

কিছুদিন আগেই প্রকাশিত হয়েছে ২০১৮ সালের যাত্রীদের প্রিয় বিমানসংস্থার তালিকা। তালিকাটি মূলত করা হয় ১২ মাস ধরে সারা বিশ্বের আকাশপথের যাত্রীদের উপর করা জরিপের উপর ভিত্তি করে।
এই বছর তালিকার প্রথম স্থান দখল করেছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স। বিগত বছরের প্রথম স্থানে থাকা এমিরেটস এইবার তৃতীয় স্থানে নেমে গিয়েছে। সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্স আমেরিকার একমাত্র বিমানসংস্থা যেটি তালিকায় জায়গা পেয়েছে। এইবার তালিকায় নতুন সংযোজন করা হয়েছে জেট 2.কম, এভা এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ। সেরা দশের মধ্যে ছয়টিই হচ্ছে এশিয়ার (সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স,এমিরেটস,কাতার এয়ারওয়েজ, জাপান এয়ারলাইন্স, এভা এয়ার, কোরিয়ান এয়ার)। চলুন তবে দেখে আসা যাক বিশ্বের সেরা দশ বিমানসংস্থার তালিকাটি।

১. সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স

সিংগাপুর এয়ারলাইন্স বিজনেস ক্লাস। Source:Pinterest

বিশ্বের বৃহত্তম বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে একটি হলো সিংগাপুর এয়ারলাইন্স। বিশ্বের প্রায় ৩৫টি দেশে ৬০টিরও অধিক জায়গায়  তারা কার্যক্রম পরিচালনা করে। স্যুটস, বিজনেস ক্লাস, ফার্স্ট ক্লাস, ইকোনমি- এই চার শ্রেণীতে সেবা প্রদান করে তারা। ফ্লাইট এটেনড্যান্টদের যাত্রীদের সাথে প্রচণ্ড যত্ন আর শ্রদ্ধার সাথে ব্যবহার করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আর এই জন্যই সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বিমান ছাড়ার আগে যাত্রীদের গরম তোয়ালে সরবরাহ করা হয়। যাত্রীদের ব্যক্তিগত টিভিতে রয়েছে অনেক রকম বিনোদনের ব্যবস্থা। উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের জন্যও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের সুনাম রয়েছে।এটি ২০১৮ সালের সেরা ‘ফার্স্ট ক্লাস এয়ারলাইন’ এর খেতাব পেয়েছে।

২. এয়ার নিউজিল্যান্ড

এয়ার নিউজিল্যান্ডের প্রিমিয়াম ইকোনমি। Source:Pinterest

নিউজিল্যান্ডের জাতীয় বিমানসংস্থা এয়ার নিউজিল্যান্ড। দেশের অভ্যন্তরে ২০টিরও অধিক জায়গায় সহ এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, যুক্তরাজ্য সহ বিশ্বের প্রায় সব জায়গায় কার্যক্রম পরিচালনা করে। অন্যান্য বিমান সংস্থার ইকোনমি ক্লাসের চেয়ে এয়ার নিউজিল্যান্ডের ইকোনমি ক্লাস অনেক উন্নত মানের। এজন্য যাত্রীদের কাছে এই “প্রিমিয়াম ইকোনমি”র অনেক কদর আছে।

৩. এমিরেটস

এমিরেটস বিজনেস ক্লাস। Source:Pinterest

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এমিরেটস মিডল ইস্টের সবচেয়ে বড় বিমানসংস্থা। এটি প্রায় ৭৮টি দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। আরাম আর রুচিশীলতার সংমিশ্রণের জন্য সবসময় যাত্রীদের কাছে আলাদা আবেদন রয়েছে দুবাই নির্ভর বিমানসংস্থা এমিরেটসের। এয়ারবাসগুলো বিশাল, চওড়া আসন, প্রশস্ত জানালা।
বিমানে প্রথম ২ ঘণ্টায় ২০ এমবি পর্যন্ত ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। ইন-ফ্লাইট বিনোদনের জন্য রয়েছে অনেক ধরনের ভিডিও আর মিউজিক, এমনকি লাইভ খেলাধুলা দেখারও ব্যবস্থা রয়েছে। ফার্স্ট ক্লাস কেবিনে স্যুটস, ফ্ল্যাট বেড, স্লিপার সিট–এই তিন ধরনের সুবিধা আছে।

৪. জাপান এয়ারলাইন

জাপান এয়ারলাইনের বিমান। Source:Pinterest

জাপান এয়ারলাইন্স, যেটি  “নিক্কো” নামেও পরিচিত, জাপানের জাতীয় বিমান সংস্থা। ভালো মানের এবং মজাদার খাবার পরিবেশনের জন্য এরা সুনাম কুড়িয়েছে। বিমানে জাপানিজ অথবা আমেরিকান/ইউরোপিয়ান দুই ধরনের খাবারই সরবরাহ করা হয়। চিরাচরিত জাপানি ধারায় সব কিছু সুন্দরভাবে সাজানো এখানে। ভাষাগত সামান্য বাধা থাকলেও ফ্লাইট এটেনড্যান্টদের আন্তরিকতায় তা দূর হয়ে যায়। এমনকি ইকোনমিতেও যথেষ্ট পা রাখবার জায়গা থাকে।

৫. এভা এয়ার

এভা এয়ারের হ্যালো কিটি থিমের বিমান। Source:Pinterest

তাইওয়ান নির্ভর বিমান সংস্থা এভা এয়ার। এই এয়ারলাইন্সটি প্রথম ‘প্রিমিয়াম ইকোনমি’ কেবিন প্রবর্তন করে। এভা এয়ারের ‘হ্যালো কিটি’ থিমের কিছু বিমান আছে যেগুলো যাত্রীদের কাছে অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।এসব বিমানের চেক ইন থেকে শুরু করে, বিমানের ভেতরের সবকিছু এমনকি পরিবেশিত খাবারের মধ্যেও ‘হ্যালো কিটি’র ছোঁয়া রয়েছে। বিমানে পা রাখবার যথেষ্ট জায়গা থাকে।

৬. সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্স

সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের বিমান। Source:Pinterest

ডালাসের সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্স বিশ্বের বৃহত্তম বাজেট বিমান। এটি ১০টি দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। এদের শুধু ইকোনমি ক্লাসের কেবিন আছে। অন্যান্য বাজেট বিমানগুলোর মতো এরা ২টি লাগেজের জন্য আলাদা ফি নেয় না। নির্ধারিত সময়ে বিমান চলাচল, সুন্দর লাগেজ ব্যবস্থাপনায় এদের সুনাম রয়েছে।

৭. জেট2.কম

জেট2.কমের বিমান। Source:Pinterest

এটি ব্রিটিশ বাজেট বিমান। ইউরোপের প্রায় ৬০টি গন্তব্যে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। বাজেট বিমান হওয়ায় যাত্রীদের চেক-ইন লাগেজ, বিমানের ভেতরের খাবার জন্য আলাদা মূল্য পরিশোধ করা লাগে। খুব দ্রুত দক্ষতার সাথে চেক-ইন করা হয়। যাত্রীদের তাই দীর্ঘসময় ধরে লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা নেই।

৮. কাতার এয়ারওয়েজ

কাতার এয়ারওয়েজের ফার্স্ট ক্লাস। Source:Pinterest

দোহা নির্ভর এই বিমানসংস্থাটি আরামদায়ক আসন আর বিমানের অভ্যন্তরের বিনোদনের জন্য সুনাম কুড়িয়েছে। এটি ৬টি মহাদেশের ১৪৫টি গন্তব্যে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিমানে পরিবেশিত খাবারগুলো সুস্বাদু এবং অনেক বেশি পরিমাণে দেয়া হয়।
উন্নত মানের সেবার জন্য যাত্রীদের কাছে এর আলাদা আবেদন রয়েছে। কাতার এয়ারওয়েজকে বলা হয় ‘সেরা বিজনেস ক্লাস এয়ারওয়েজ’। নির্ধারিত সময়ে বিমান চালোনায় এদের সুনাম রয়েছে। বিজনেস ক্লাস এবং ফার্স্ট ক্লাসের আসনগুলোকে বিছানায় রূপান্তর করা যায়।

৯. আযুল

আযুলের বিমান। Source:Pinterest

এটি ব্রাজিলের বাজেট বিমান। দেশের অভ্যন্তরের ১০০টি জায়গায় ব্যবহার করা যায়। বেশিরভাগ বিমানে শুধু ইকোনমি ক্লাস কেবিন থাকে, যদিও কিছু কিছু বিমানে বিজনেস ক্লাস কেবিনও থাকে। বাজেট বিমান হলেও হালকা নাস্তা, পানীয় পরিবেশন করা হয়। অন্যান্য বাজেট বিমানের তুলনায় আযুলের সেবা ভালো।

১০. কোরিয়ান এয়ার

কোরিয়ান এয়ারের বিজনেস ক্লাস। Source:Pinterest

সাউথ কোরিয়ার কোরিয়ান এয়ার এবার সেরা দশে স্থান করে নিয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে ২০টি এবং ১০০টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। ফ্লাইট এটেনড্যান্টরা হাসিমুখে সবসময় যাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত। বিমানে পরিবেশিত খাবার মানও ভালো। চাইলেই বাড়তি নাস্তা, পানীয় পাওয়া যাবে। এটি ২০১৮ সালের বেস্ট ‘ইকোনমি এয়ারলাইন’।
ফিচার ইমেজ- Pinterest
সোর্স-tripadvisor

Must Read

নয়ন জুড়াতে পারেন দারুচিনি দ্বীপের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে

“বাংলার মুখ দেখিয়াছি তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর” – কবি জীবনানন্দ দাশ হৃদয়ের গভীর থেকে চয়ন করেছেন এই কথা যা বাংলাদেশের...

শৈলপ্রপাতের কত রূপ!

বান্দরবান শহর থেকে নীলগিরি, থানচি কিংবা রুমার দিকে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথে যাত্রা শুরু করে, ৮ কিলোমিটার সামনে গেলেই পাহাড়ের সবুজের ভেতর থেকে কানে আসবে...

প্যারাগ্লাইডিং করে আকাশে উড়বার জন্য বিশ্বে সেরা যে স্থানগুলো

মানুষের মন বড় বেশিই বৈচিত্র্যময়। তার কখনো আকাশ ছুঁতে ইচ্ছে হয়, কখনো ইচ্ছে হয় মেঘে ভেসে বেড়াতে, কখনোবা তার হারিয়ে যেতে ইচ্ছে হয় সমুদ্রের...